পবিত্র কুরআন এই গ্রহের সর্বশেষ, চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তিত আধ্যাত্মিক গ্রন্থ হিসাবে বিবেচিত। ইহা মানবজাতির জন্য সমাজে বাস এবং আচরণ করার একটি সম্পূর্ণ নির্দেশিকা। পবিত্র কুরআন (৫১:৫৬) মতে, "আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি"। তদ্ব্যতীত, পবিত্র কুরআন (৬৭: ২) বলে, "যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়"। সুতরাং উপরোক্ত দুটি আয়াত থেকে এ বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আমাদের (ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী) মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের জন্য ভালো কাজ করার পাশাপাশি প্রার্থনার মাধ্যমে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইবাদত করা, অন্যকে সাহায্য করা এবং জ্ঞান সন্ধান করা। এটা সত্য যে অর্থায়ন আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের জীবিকার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। পবিত্র কুরআনের আর্থিক ব্যবস্থা যাকাত (বাধ্যতামূলক দাতব্য) এবং কর্যে হাসানার (উপকারী ঋণ) উপর জোর দেয় হয়েছে, যেখানে রিবা (সুদ) এবং ঘররকে (অনিশ্চয়তা) একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । প্রতিটি মানুষ একটি সম্প্রদায়ের (গ্রাম বা আরবান টাউন) অধীনে বাস করে। মজার বিষয় হল, প্রতিটি সম্প্রদায়ের ধনী ব্যক্তি, দরিদ্র মানুষ, উচ্চ জ্ঞানী ব্যক্তি পাশাপাশি কম জ্ঞানী লোকও রয়েছে। সমাজে কেন বিভিন্ন ক্ষমতার লোকের বাস? এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন (৪২:২৭) ইরশাদ করছে, “যদি আল্লাহ তাঁর সকল বান্দাকে প্রচুর রিযিক দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের খবর রাখেন ও সবকিছু দেখেন "। এর অর্থ হল, বিভিন্ন ক্ষমতার লোকেরা সমাজকে ভারসাম্য করে তোলে, অন্যথায় সমাজে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো, যেমন, কোন লোকেরা ফসল ফলাবে, যদি কেবলমাত্র ধনী ব্যক্তিরা সমাজে বাস করত। সুতরাং, সমাজে ভারসাম্য আনতে সমাজের নেতাদের (আর্থিকভাবে ভালো বা জ্ঞানী লোকেরা) এটি একটি স্বাভাবিক দায়িত্ব, সঠিকভাবে যাকাত অথবা কর্যে হাসানা প্রদানের মাধ্যমে তাদের সম্প্রদায়ের দরিদ্র ও স্বল্প জ্ঞানের লোকেদের যত্ন নেওয়া । এইভাবেই, একটি উন্নত সমাজ অর্জন করা যেতে পারে, কারণ অতীব দরিদ্র লোক, যাদের ঋণের প্রয়োজন নেই, তারা যাকাতের অর্থের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে এবং মধ্যপন্থী দরিদ্র মানুষ, যাদের ঋণ হিসাবে প্রয়োজন কর্যে হাসানার, তারা তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা ভালভাবে পরিচালনা করতে পারে।
তদুপরি, পবিত্র কুরআনের দুটি আয়াতে (৭:১০ "আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর" এবং ৬২:১০ "অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও") মানবজাতির একক ব্যক্তির বাধ্যবাধকতার উপর জোর দেয়া হয়েছে, যেখানে ঐ ব্যক্তির সম্পদের ব্যবহার তার নিজের এবং অন্যের চাহিদা যেন পৃথিবীতে সু-পরিচালিত ভাবে পূরণ করতে পারে, যা সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা'আলা আস্থা হিসাবে সরবরাহ করেছেন। পবিত্র কুরআনের অন্যান্য আয়াতে (৭০: ২৪-২৫ "এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে, যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের") ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৃহত্তর ব্যবধান এড়াতে অভাবীদের সাথে সম্পদ ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে, “এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের "। ‘হক’ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে সমাজের দৃঢ় বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বিশেষত ধনী ব্যক্তিদের, যাকাত, সাদাকা, কর্যে হাসানা এবং ওয়াকাফ আকারে দারিদ্র্য বিমোচনে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখা।
0 comments