আল্লাহ সুবাহনাতায়ালা মহানবি (সা.) উপর সর্বশেষ আসমানি কিতাব পবিত্র কুরআন নাজিল করার মাধ্যমে মানবজাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইহকালের মুমিনের জীবনই দুনিয়াতে পরম শান্তি এবং পরকালে সাফল্যের জীবন (সুরা আল মুমিনূন (২৩) আয়াত ১, ২, ৩, ৪, ৫ : “মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, যারা যাকাত দান করে থাকে এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে”; সুরা আল মুমিনূন (২৩) আয়াত ৮ : “এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে”)। মহানবির পুরো জীবনটাই ছিল পবিত্র কুরআনের আলোকে মুমিনের জীবন। মহান আল্লাহ সুবাহনাতায়ালা মানুষকে চিন্তাশক্তি (সুরা নাহল (১৬) আয়াত ৭৮ : “আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর”), শ্রমশক্তি (সুরা আল বালাদ (৯০) আয়াত ০৪ : “নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি”) ও উদ্ভাবনী দক্ষতা (সুরা আল মুলক (৬৭) আয়াত ১০ : “তারা আরও বলবে, যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না”) দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যার ফলে যুগে যুগে মানুষ বিভিন্ন আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। আজ হাজীরা আল্লাহ সুবাহনাতায়ালা অশেষ কৃপায় বাস বা ট্রেনে চড়ে মক্কা-মদিনা আসা-যাওয়া করেন। অথচ দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবি (সা.) পায়ে হেঁটে ও উটের পিঠে চড়ে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। ইসলামের জন্য এই ত্যাগকে মহান আল্লাহ সুবাহনাতায়ালা অতীত এবং বর্তমান উভয় যুগের মুমিনদেরকে প্রশংসিত করেছেন (সুরা আল হাদীদ (৫৭) আয়াত ১০ : “তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কীসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যাদা বড়ো তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত”)। অবশ্যই আমরা (মুমিন মুসলিমরা) আল্লাহ সুবাহনাতায়ালার হক, মানুষের হককে প্রাধান্য দেবো। বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আমরা চিন্তাশীল হব যাতে জিন ও মানুষ শয়তানের কুপ্ররচনাকে পরাজিত করতে পারি। আমরা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান-সচেতন (শরীরবিদ্যা ও পুষ্টিবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান) হব, যাতে সঠিকভাবে আল্লাহ সুবাহনাতায়ালার প্রশংসা, সালাত, রোজা, এবং পেশাগত হালাল রোজগার করতে পারি। পবিত্র কুরআন ও মহানবি (সা.) জীবনের সুন্নাহ আলোকে কীভাবে জীবন অতিবাহিত করলে আমরা মুমিন হতে পারবো, তা আলোকপাত করা হলো :