সুস্বাস্থ্য মহান আল্লাহ সুবাহনাতায়ালার দেওয়া এক বিস্ময়কর নিয়ামত। মানুষ যখন রোগে ভুগে তখন উপলব্ধি করতে পারে সুস্বাস্থ্য জীবন কত মধুর। এজন্য অসুস্থ হবার আগেই আমাদেরকে (মুমিন মুসলিমদেরকে) সচেতন হতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ শরীরবিদ্যা ও পুষ্টিবিদ্যা বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এতে আমরা রোগ প্রতিরোধ করতে পারবো যা সবসময়ই উত্তম, রোগ নিরাময় থেকে। অবশ্যই মানুষের রোগ হবে (সুরা আল বাকারা (০২) আয়াত ১৫৫ : “এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের”; সহিহ আল বুখারি হাদিস নং ৫৭৪৩ : “নবি (সা.) তাঁর কোনো কোনো স্ত্রীকে সূরা নাস ও সূরা ফালাক পড়ে ডান হাত দিয়ে বুলিয়ে দিতেন এবং পড়তেন, হে আল্লাহ মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোণ আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোণ রোগ অবশিষ্ট থাকে না”) এবং রোগ নিরাময় করার জন্য আমরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। ডাক্তার ঔষধ লিখে দেয়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তারগণ রোগীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন না সময় স্বল্পতা অথবা জ্ঞান শেয়ার করতে না চাওয়া (উভয়ই অনৈতিক) কারণে তাতে যে সমস্যাগুলো হয় তা হলো : সঠিক তথ্য ও সচেতনতার অভাবে রোগী অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, রোগী রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তিতে ভোগেন, এবং তিলেতিলে রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। যদিও একজন রোগীর আরোগ্য লাভ করা নির্ভর করে মহাজ্ঞানী আল্লাহ সুবাহনাতায়ালার আশীর্বাদ, রোগীর অসুখ থেকে ভালো হবার আকাঙ্ক্ষা, এবং ডাক্তারদের নিবেদিত সাহায্যে। সুতরাং, আমরা মুমিন ডাক্তাররা যেন ব্যাবসায়িক ভিত্তিতে রোগীকে বিবেচনা না করে নিবেদিত প্রাণে রোগী দেখি। তিনি (মুমিন ডাক্তার) যেন মনে করেন রোগটি আমার হয়েছে, আমিইতো রোগী (সহিহ আল বুখারি হাদিস নং ১৩ : “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার (মুসলিম) ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে”)। নিশ্চিতভাবে ডাক্তারদের এ ধরনের মানসিকতা সমাজকে সুন্দর এবং বিশুদ্ধ করবে। তবুও নিজেদের (বিশেষকরে রোগীদেরকে) সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান-নির্ভর ও সচেতন করতে কিছু রোগ, শরীরবিদ্যা ও পুষ্টিবিদ্যা সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :