উত্তরাধিকার সম্পদের আত্মসাৎকারী: এই দুনিয়ার পরম প্রিয়জন (ভাই-বোন) আত্মার ঠিকানা সিজ্জীন (আগুনের ছোয়া)
আরবি শব্দ "শরীয়াহ" অর্থ হল সঠিক পথ। এই ‘সঠিক পথ’ পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর অনুশীলনের মাধ্যমে একটি বিশুদ্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ মানব জীবনকে বোঝায়। অন্য কথায়, এটিকে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে আল্লাহ সুবহানাতাআলার আদেশ, যিনি পরম করুণাময় এবং অসীম দয়ালু, যা মানব জীবনের সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। শরীয়াহ হল নিয়ম, বিধি, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের একটি সেট যা বিশ্বাস, উপাসনা, নীতি এবং লেনদেনকে অন্তর্ভুক্ত করে। শরীয়াহ মূলত চারটি উৎস রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ হল পবিত্র কুরআন। অন্যান্য উৎসগুলি এর সাথে বিরোধিতা করা উচিত নয় বরং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। দ্বিতীয় উৎস হল সুন্নাহ, যা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর শিক্ষা এবং অনুশীলন নিয়ে গঠিত। তৃতীয় উৎস হল ইজমা, যা ইসলামী আইনবিদদের দ্বারা সর্বসম্মত চুক্তি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। চতুর্থ উৎস হল কিয়াস, যা পূর্বোক্ত তিনটি উৎসের উপর ভিত্তি করে ইসলামী পণ্ডিতদের দ্বারা তৈরি যুক্তি এবং সিদ্ধান্তের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ চিন্তাভাবনা জড়িত। মূলত, শরীয়াহ মানবতার জন্য একটি আশীর্বাদ এবং দুর্যোগের বিরুদ্ধে রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি ইসলামী আইনের (ফিকহ) সাথেও সম্পর্কিত। শরীয়াহ এবং সমাজের যেকোনো পরিস্থিতিতে এর প্রয়োগের উপর ভিত্তি করে সময়ের সাথে সাথে ইসলামী আইন বিকশিত হতে পারে।
আল্লাহ সুবাহনাতায়ালা পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তার এই সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্য। তিনি এই সৃষ্টির মাধ্যমে তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে পরীক্ষা করতে চান কে কর্মে উত্তম। সুরা মূলক (৬৭) আয়াত-২ তে বলা হয়েছে: “যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করিবার জন্য-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল১”। সুতরাং, যে সকল মানুষ এই অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার (অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে সূরা এখলাছ (১১২) ইরশাদ করছে: “বল, ‘তিনিই আল্লাহ, এক -অদ্বিতীয়; আল্লাহ কাহারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাহার মুখাপেক্ষী; ‘তিনি কাহাকেও জন্ম দেন নাই এবং তাঁহাকেও জন্ম দেওয়া হয় নাই, ‘এবং তাঁহার সমতুল্য কেহই নাই১”) আদেশ পালন করে পৃথিবীতে জীবন-যাপন করবে তারাই হল সর্বোত্তম আত্মার অধিকারী, এরাই সফলকাম এবং এরাই পরবর্তী জীবনের জান্নাত লাভের সুসংবাদপ্রাপ্ত। সূরা আল বাক্বারাহ (০২) আয়াত-২ এবং ৩ তে বলা হয়েছে: “ইহা সেই কিতাব; ইহাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকীদের জন্য ইহা পথ-নির্দেশ। যাহারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে ও তাহাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করে ১”। সূরা আল বাক্বারাহ (০২) আয়াত-৫ তে বলা হয়েছে: “তাহারাই তাহাদের প্রতিপালক-নির্দেশিত পথে রহিয়াছে এবং তাহারাই সফলকাম১”।
আল্লাহ সুবহানাতাআলা সূরা আল-আ'রাফের (০৭) আয়াত-১৭২ বলেন “স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক আদমসন্তানের পৃষ্ঠদেশ হইতে তাহার বংশধরকে বাহির করেন এবং তাহাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই ?' তাহারা বলে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা সাক্ষী রহিলাম। ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন না বল, ‘আমরা তো এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম১”। অতএব, যখন মানুষ আত্মার জগতে ছিল, তখন তারা আল্লাহ সুবহানাতাআলাকে তাদের রব হিসেবে মেনে নিয়েছিল। এই আত্মাগুলো পরবর্তীতে আল্লাহর আদেশে বিভিন্ন মুসলিম বা অমুসলিম ধনী অথবা দরিদ্র পরিবারে মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিল এবং করবে। এই মানব সৃষ্টির মূল লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো কোন আত্মা মানুষ হিসাবে কর্মে ভালো: শরীয়াহ বিধি মেনে চলার মাধ্যমেই মানুষের আত্মা পবিত্র এবং ভালো হয়। পার্থিব জীবন শেষে ভালো আত্মার ঠিকানা ইল্লিয়্যীনে (পরম আরাম) (সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩) আয়াত-১৮: “অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে১”) এবং অপরাধী আত্মার ঠিকানা সিজ্জীন (আগুনের ছোয়া) (সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩) আয়াত-৭: “এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে২”)। আল্লাহ সুবহানাতাআলা সূরা আল-আ'রাফের (০৭) আয়াত-১৭৯ ইরশাদ করছেন “আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ২”। অতএব, আল্লাহ সুবহানাতায়ালার আদেশের প্রতি শৈথিল্যপরায়ণতা কেবল বোকামিই নয়, বরং পাপ।
সুতরাং, আমাদেরকে অর্থনীতি সম্পর্কিত আল্লাহ সুবহানাতায়ালার আদেশগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ (সূরা আন নিসা (০৪) আয়াত-১১ “আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিতেছেন : এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান, কিন্তু কেবল কন্যা দুই-এর অধিক থাকিলে তাহাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ, আর মাত্র এক কন্যা থাকিলে তাহার জন্য অর্ধাংশ। তাহার সন্তান থাকিলে তাহার পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ ; সে নিঃসন্তান হইলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হইলে তাহার মাতার জন্য এক-তৃতীয়াংশ ; তাহার ভাই-বোন থাকিলে মাতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ; এ সবই সে যাহা ওসিয়াত করে তাহা দেওয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে উপকারে কে তোমাদের নিকটতর তাহা তোমরা অবগত নও। নিশ্চয়ই ইহা আল্লাহর বিধান; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়১”) উত্তরাধিকার সম্পদের সঠিকভাবে বন্টন করতে হবে । কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার এই আদেশ পালনে আমরা উভয়ই (সম্পদ আত্মসাৎকারী ভাইবোন এবং সম্পদ বঞ্চিত ভাইবোন- যার হৃদয়ে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে কিন্তু বলতে পারেনা আত্মীয়তার লজ্জায়) গাফেল। যদিও এতে সম্পদ আত্মসাৎকারীরা ইল্লিয়্যীন (পরম আরাম) অর্জনের জন্য পরকালে বঞ্চিতই হবেনা, তথাপি তারা বঞ্চিত হবে এই দুনিয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার পরম সৃষ্টি আত্মীয়তার স্বর্গীয় সুখ পেতে। আত্মীয়তার এই স্বর্গীয় সুখ নষ্ট করার জন্য তারা বিশেষভাবে দায়ী থাকবে।
একজন পুরুষ বা নারী এই পৃথিবীতে তার জীবনে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে যেমন বাবা বা মা, ছেলে বা মেয়ে, ভাই বা বোন। একজন বাবা বা মা হিসেবে, তাদের অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশ অনুসারে তাদের সম্পদ ছেলে এবং মেয়েকে শরীয়াহ অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে। যদি তারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা বিচারের দিন পাপী হবে। একইভাবে, যদি ছেলে বা মেয়ে তাদের পিতামাতার শরীয়াহ অনুযায়ী যত্ন নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা বিচারের দিন পাপী হবে। উপরন্তু, যদি ভাই বা বোন তাদের পার্থিব পেশীশক্তি, কূটচাল ব্যবহার করে দুর্বল ভাই-বোনের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ দখল করে, তাহলে তারাও বিচারের দিন পাপী হবে। জনপ্রিয় ইসলামী চিন্তাবিদ ডঃ আজহারী তার “এক নজরে কোরআন” বইয়ে বলেন: “নারীর অধিকার, নারীর নিরাপত্তা, নারীর প্রতি সহনশীলতা- এই শব্দগুলো অন্য কারও নয়; আমাদের, মুসলিমদের। একটা সময়ে ইউরোপে নারীদের প্রাণী হিসেবেও বিবেচনা করা হতো না। তারও বহু আগেই নারীকে সম্মানের আসনে বসিয়েছে ইসলাম। কিন্তু দুঃখের কথা, এই শব্দগুলো আজ বেহাত হয়ে গেছে। … … । কিন্তু এর পেছনে আমাদের দায় কি কোনো অংশে কম? সমাজের শতকরা ৯৫ ভাগ পুরুষ এখনও নিজের বোনকে ঠকায়। আর এই ঠকানোর কায়দা-কৌশল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। বাবা মারা গেছে কম করে হলেও বছর বিশেক হবে। অথচ ওয়ারিশি সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারার নাম-গন্ধও নেই। বোনদের জমিতে দিব্যি হালচাষ করে খাচ্ছে ভাইয়েরা। একসময় চাপে পড়ে ভাগ-বাটোয়ারার আয়োজন করে বটে। কিন্তু এবার আরেক দফা জুলুম। বাড়ির জমিতে বোনদের ভাগ নেই, ভালো জমিতে ভাগ নেই, রাস্তার পাশের জমিতে ভাগ নেই- এরকম আজগুবি সব নিয়ম-কানুন! শেষমেশ বোনদের অংশ দেওয়া হয় ডোবার আর জঙ্গলে। নামকাওয়াস্তের ভাগ-বাটোয়ারা শেষ। এখন বোনরা যখন সেসব সম্পদ বেচতে আসে, শুরু হয় তৃতীয় দফার জুলুম। যে জমিটার বাজার দর আছে বিশ লাখ টাকা, সেখানে মোটের ওপর দু-লাখ ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করে। আর ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগায় আমাদের শত্রুরা। নামধারী মুসলিমদের কুকর্মের দায় চাপায় কুরআনের ওপর। সুতরাং, বোনদের ওপর একরত্তি জুলুমও যদি আপনি করেন, মনে রাখবেন- পেটে উত্তপ্ত আগুন ঢুকবে। আল্লাহকে ভয় করুন। নারী কেবল নারী নয়, নারী একজন মা- যার কোলে-কাঁখে বেড়ে ওঠে গোটা উম্মাহ”।
একজন ব্যক্তি (নারী বা পুরুষ) কোন পরিবারে জন্মগ্রহণ করবেন এবং কারা তার পরিবারের সদস্য হবেন, তা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নির্ধারণ করেন। অতএব, একজন ব্যক্তিকে তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ মেনে চলতে হবে যাতে কেউ তাকে অন্যায় কাজের জন্য বিভ্রান্ত করতে না পারে। তিনি পরিবারের কোন সদস্যের এমন কোন অন্যায় কাজ মেনে নেবেন না যা আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে। তাকে অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাতায়ালার আদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হবে, যা একজন মুমিন/আউলিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য (সূরা আত তাওবাহ (০৯) আয়াত-৭১ মুমিন/আউলিয়া সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন: “মু'মিন নর ও মু'মিন নারী একে অপরের বন্ধু, ইহারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করে; ইহাদেরকেই আল্লাহ কৃপা করিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়১”)। আল্লাহ সুবহানাতাআলা সূরা আল বাক্বারাহ (০২) ১৫৩-১৫৫ আয়াতে ইরশাদ করছেন “হে মু'মিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আল্লাহর পথে যাহারা নিহত হয় তাহাদেরকে মৃত বলিও না, বরং তাহারা জীবিত; কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করিতে পার না। আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করিব। তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলগণকে২”।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন শয়তান (ইবলিশ) মানবজাতির প্রকৃত শত্রু। শয়তান হল একটি অদৃশ্য শত্রু যে মানুষের মস্তিষ্কে কাজ করে এবং তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে কাজ করানোর চেষ্টা করে। শয়তান পরিবারের শক্তিশালী সদস্যদেরকে পেশীশক্তি, চতুরতা এবং পরিবারের সম্মান রক্ষার ভুল দর্শনের মাধ্যমে অন্যদের সম্পত্তি (বিশেষ করে দুর্বল ভাই-বোনদের জমির ভাগ এবং অন্যান্য সম্পদ) দখল করতে প্ররোচিত করে। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে শয়তান সম্পর্কে বলা হয়েছে: সূরা আল বাক্বারাহ (০২) আয়াত-১৬৮ “হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু২”। সূরা আল বাক্বারাহ (০২) আয়াত-২০৮ “হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু২”। সূরা নাহল (১৬) আয়াত-৯৮ “অতএব, যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন২”।
সর্বোপরি, যেসব দখলকারী ভাই ও বোনেরা শয়তানের উস্কানিতে তোমাদের ভাই ও বোনদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছো, তোমরা তোমাদের বঞ্চিত ভাই ও বোনদের সাথে ফয়সালা করে নাও। মনে রেখো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তোমাদেরকে এই পৃথিবীতে শাস্তি দিতে পারেন, পরকালে অনন্ত শাস্তির ব্যবস্থা সিজ্জীন (আগুনের ছোয়া) তো রয়েছেই। মৃত্যুর পর, ফেরেশতারা প্রতিটি দেহের আত্মাকে ইল্লিয়্যীনে (পরম আরাম) অথবা সিজ্জীনে (আগুনের ছোয়া) বহন করে। আসুন আমরা সবাই মিলে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার আদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হই এবং এর ব্যর্থতার জন্য যাতে দোষী না হই।
[পবিত্র কুরআনের বাংলা তরজমার উৎস: ১https://www.quran.gov.bd; ২https://www.quraanshareef.org]
ডঃ মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং অর্থনীতিবিদ
0 comments