সুদ, নিঃসন্দেহে, সমাজের প্রতি একটি অবিচার যেহেতু কোনও রকম পরিশ্রম ছাড়াই সময়ের সাথে অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায়। সুদ কেন সমাজের প্রতি অবিচার তা সহজেই একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যায়। জমির দাম হয় বাড়বে অথবা হ্রাস পাবে তা জমিটির চাহিদা এবং সেই অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্বের উপর ভিত্তি করে। যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, এই গ্রহে কোন মানুষই নেই, স্পষ্টতই, ভূমির কোন মূল্য থাকবে না, কারণ গ্রহটিতে জমি কেনার মতো কোন মানুষই নেই, যা অত্যন্ত যৌক্তিক।

      অন্যদিকে, সুদের ক্ষেত্রে, কেউ যদি কারও কাছ থেকে অথবা কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নেয়, ঋণের অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ঋণের অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদি ঋণ গ্রহীতা ঋণ পরিশোধ না করে মারা যায়, তবে ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না ঋণগ্রহীতার নিকটাত্মীয়দের দ্বারা ঋণটি পরিশোধিত না হয়। এক্ষেত্রে, একটি জীবন্ত ঘটনা দেখা যেতে পারে : একজন লোক স্থানীয় ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিয়েছিল এবং কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে সে খুব নিয়মিত ছিল, তবে, আকস্মিক দুর্ঘটনায় তিনি মারা গিয়েছিলেন তবে ব্যাংকটি নিকটাত্মীয়দের জোর করছিল সুদ সহ ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য। অন্যথায়, ব্যাংকটি টাকা পেতে আদালতের দ্বারস্ত হবে। এটিই সুদের চূড়ান্ত প্রভাব, যা সমাজের প্রতি একটি অবিচার। তদুপরি, ভারতে, হাজার হাজার কৃষক, যারা মানবজাতির জন্য শস্য উৎপাদন করেছিল, খরায় তাদের সমস্ত ফসলের ক্ষতি হওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল, এজন্য যে সুদে ধার করা অর্থ যা দিয়ে তারা ফসল বুনেছিল, তা এখনও বাড়ছে যা তাদেরকে এক ধরনের চূড়ান্ত হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত করেছিল এ ধরনে দুঃখজনক ঘটনা ঘটানোর। এ কারণেই পবিত্র কোরআন (সূরা আল বাকারা আয়াত ২৭৮) বলছে : “হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ইমানদার হয়ে থাক”। পবিত্র কুরআন (সূরা আল বাকারা আয়াত ২৭৯) আরও বলছে, “অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না"। অন্য একটি আয়াতে পবিত্র কুরআনে (সুরা আল বাকারা আয়াত ২৭৫) ইরশাদ হয়েছে "যারা সুদ খায়, তারা কেয়ামতে দণ্ডায়মান হবে, যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে"।

      এ কারণেই, ইসলামে সুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এজন্য যে, এটি ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতির চেতনার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করে এবং লোভ, স্বার্থপরতা এবং কঠোর হৃদয়ের প্রচারের মাধ্যমে সমাজে অবিচার আনয়ন করে, যা সমাজে মুদ্রাস্ফীতি, ঋণের বোঝা এবং একচেটিয়া ব্যাবসার উত্থান ঘটায়। সুদভিত্তিক ব্যবস্থায়, ধনী ব্যক্তিরা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে এবং সুদের নিশ্চিত অতিরিক্ত অর্থ অর্জনের মাধ্যমে ধনী হয়ে উঠছেন; অন্যদিকে বিনিয়োগের ঝুঁকি এবং লাভ ভাগ করে নেওয়ার চেয়ে অভাবী ঋণগ্রহীতারা বরং ঋণের সমস্ত ঝুঁকি নিচ্ছে। তবে, লাভ ও লোকসান ভিত্তিক বিনিয়োগ, কেনা বেচা ভিত্তিক বিনিয়োগ এবং ভাড়াভিত্তিক বিনিয়োগ যা সমস্তই ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য, সমাজে তা ন্যায়বিচারের সৃষ্টি করে।

 

 

 

0 comments

Leave a reply

Categories
Hajj
0
Sadaqah
0
Qard Hasan
0
Gift
0
Investment
0
Research
0
Interest
1
Inheritance asset
1
Other
0

Find Articles, Fatwas, And Knowledge

Search by topic, keyword, or category and press enter.